3
সারাদেশে এলপিজি বিপণন ও সরবরাহে ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান ফলে আজ বৃহস্পতিবার থেকে এলপি গ্যাস বিক্রি শুরু হয়েছে।
বৈঠকে এলপিজি ব্যবসায়ীরা তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, সারাদেশে চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা, এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বৈঠকে আশ্বস্ত করেন যে কমিশন চলমান কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং চার্জ বৃদ্ধির বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, জাহাজের স্বল্পতা সত্ত্বেও পণ্য আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
তবে সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান জানান, অপারেটরদের কাছ থেকে একটি সিলিন্ডার কিনতে তাদের খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি। ফলে তাদের পক্ষে দেড় হাজার টাকার কম দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, জানুয়ারি মাসে কমিশন নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার বেশি দামে এলপিজি বিক্রির কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখছেন না তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার (৭ জানুয়ারি) চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এ ঘোষণার পর আজ সকাল থেকে ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য জেলায় এলপিজি বিক্রি স্বাভাবিক ছিল।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কারণে, শীঘ্রই সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।