3
পবিত্র রমজান মাস আসতে এখনো এক মাসেরও বেশি বাকি। তার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রোজা এলেই দাম বেড়ে যায় এমন অভিযোগের মধ্যেই এবার চিনির দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।
এদিকে শীতের মৌসুমে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির উৎসবের আমেজ লেগেছে। বাজারে শীতকালীন সবজির আধিক্য থাকায় দামও কমেছে। দীর্ঘদিন পর সবজির দামে স্বস্তি পেয়ে খুশি ভোক্তারা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, টমেটো, পালং শাক, লাল বাঁধাকপিসহ প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজি পাওয়া যাচ্ছে। বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। কিছু সবজি কম দামেও পাওয়া যাচ্ছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি স্বস্তি।
বর্তমানে ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, মটরশুঁটি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, গাজর ও মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং পালং শাক ও লাল বাঁধাকপি ১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক কম।
ক্রেতারা বলছেন, সারা বছরই সবজির উচ্চমূল্য তাদের বাজেটে বড় ধরনের চাপ ফেলে। শীতের আগমনে সেই চাপ কিছুটা কমেছে।
পুরান ঢাকার বাসিন্দা গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, আগে কিছু সবজি কিনতে হতো ২০০-৩০০ টাকায়। এখন একই টাকায় সবজি ভর্তি ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। পারিবারিক খাবারের মেন্যুও বৈচিত্র্যময়।
সবজির দাম কমলেও মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, সব সময়ই চড়া। পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বাজারে প্রতি কেজি কোরাল বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং আইডি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। শিং মাছের দাম কিছুটা কমেছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
এ ছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙ্গাস ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বড় চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজি ইলিশের দাম ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজি ইলিশের দাম ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩০০ টাকা।
মাছ বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলমের মন্তব্য, শীতে নদীতে মাছ কম ধরায় দাম বেশি, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।