2
ঢাকা, শনিবার, 13 ডিসেম্বর, 2025 — দ শরীফ ওসমান হাদীর উপর প্রাণঘাতী হামলাইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিন্তু ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণে ড নিষ্পাপ শিশুর নীরব কান্না মনে হচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে—একটি শিশু যে সম্ভবত এখনও বুঝতে পারে না যে তার প্রিয় বাবা তার জীবনের জন্য লড়াই করছেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শিশুটির কাছে তার বাবার জন্য কোনো কথা নেই, কোনো প্রতিবাদের স্লোগান নেই। শিশুটির নিষ্পাপ মনে মনে হয় একটাই ইচ্ছা—তাহলে তার বাবা শীঘ্রই ভালো হয়ে যায়তাকে শক্তভাবে আলিঙ্গন করে, এবং তাকে ভালবাসা এবং যত্নের সাথে রক্ষা করে। এই সহজ আবেদন এখন সমাজের মুখোমুখি একটি গভীর প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
একজন নাগরিক সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে তার বাবা মারা গেলে নিষ্পাপ শিশুটি কখনই জানবে না তার বাবা কেমন মানুষ ছিলেন। তার বাবা দেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন, সাহসিকতার সাথে জাতির জন্য সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছেন—কিন্তু সন্তান হয়তো এর কিছুই শিখবে না।
লেখক বলতে থাকেন, “আমি রাজনীতি বুঝি না। আমি শুধু জনগণের জন্য, বাংলাদেশের জন্য বলছি। যেখানে কাউকে প্রকাশ্যে গুলি করা যায়, সেখানে আমরা কেউই নিরাপদ নই।”
এই আবেগঘন বার্তা অনেক মানুষের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে- সুস্থ ও নিরাপদ দেশে বসবাসের অধিকার রাজনৈতিক বিষয় নয়, মৌলিক মানবাধিকার তা বোঝার আগে আর কত প্রাণ হারাতে হবে?
হাদির ওপর হামলা শুধু একজন রাজনীতিবিদ বা ব্যক্তির ওপর হামলা নয়—এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ এবং সমগ্র সমাজের নিরাপত্তা বোধের ওপর আক্রমণ। যে দেশে কাউকে প্রকাশ্যে গুলি করা যায়, সেখানে ভয়ের ছায়া শুধু একজনের নয়—সকলের।
এই ঘটনা নিয়ে আবারও গভীর প্রশ্ন উঠছে- আমরা কি কখনো একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ পাব, নাকি স্বপ্নই থেকে যাবে?