4
বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার পর ঢাকার জিয়া উদ্যানে তার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বেলা ৩টায় সংসদ ভবন মাঠ ও পার্শ্ববর্তী মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন।
এরপর বিশেষ গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধিতে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে এখন জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন নির্যাতিত হয়ে কারাবরণ করেন। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বেগম জিয়া ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাকে গুলশানের ‘ফিরোজা’ ভাড়া বাসায় রাখা হয়।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
এদিকে, 2024 সালের জুলাই মাসে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। পরের দিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডনে ১১৭ দিন থাকার পর ৬ মে দেশে ফিরে আসেন। তাঁর স্বাস্থ্যের অনেক উন্নতি হয়। তবে বিভিন্ন রোগের জটিলতায় এবং শারীরিক ও মানসিক চাপে ভুগতে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন। বয়সও প্রতিকূল ছিল। তিনি প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অবশেষে ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এক মাসের কিছু বেশি সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন খালেদা জিয়া।