0
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রত্যাশিত এবং বহুল আলোচিত পারস্পরিক শুল্ক হার 19 শতাংশে কমানোর জন্য দুই দেশ একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ফলস্বরূপ, এই চুক্তির অধীনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা এবং সিন্থেটিক ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের জন্য 'পারস্পরিক' বা পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়, তখন তা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ঢাকা থেকে অনলাইনে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরুদ্দিন। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। ওয়াশিংটনে উপস্থিত বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
বেশ কয়েক বছর ধরে, মার্কিন বাজারে রপ্তানি করা বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের ওপর উচ্চ শুল্ক একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিপরীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা এবং ফাইবারে বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ এখন মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত আমেরিকার বাজারে রপ্তানি করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে পারস্পরিক শুল্কের হার 19 শতাংশে কমিয়ে এবং নির্দিষ্ট কাঁচামাল থেকে তৈরি পোশাকের জন্য শূন্য-শুল্ক সুবিধা লাভের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এটি শুধু রপ্তানি আয়ই বাড়াবে না বরং দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বও গড়ে তুলবে।
শিল্প স্টেকহোল্ডাররা এই চুক্তিকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি 'মাইলফলক' বলে অভিহিত করেছেন, যা 2026 সালে এলডিসি স্নাতক পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।