1
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (৬ এপ্রিল) একাদশ কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়।
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের আগে ইসি প্রাথমিকভাবে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের (এমপি) চিঠি পাঠিয়েছে। সাধারণ সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে লড়বে কিনা তা ইসিকে জানাতে হবে। এই সময়সীমা শেষ হয়েছে ৫ এপ্রিল।
এই সময়সীমার আগেই রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা চিঠির মাধ্যমে কমিশনকে জানিয়ে তাদের জোটের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। পরদিন ইসি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামসহ ফলাফল প্রকাশ করে। নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ ৫০টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র নয়টি দল আসন পেয়েছে, আর জাতীয় পার্টিসহ বাকি ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি।
আইন অনুযায়ী, 50টি সংরক্ষিত মহিলা আসন 300টি সাধারণ আসনের ভিত্তিতে বন্টন করা হয়। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা একটি দল বা জোটের জয়ী আসনের সংখ্যার সমানুপাতিকভাবে নির্ধারিত হয়। এই হিসাবের ভিত্তিতে বিএনপি ৩৬টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১২টি আসন, জোট গঠন করলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবে ২টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন পাবে। তবে ছোট দলগুলো জোট গঠন না করলে কোনো আসন পাবে না।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এই আইন অনুসারে, কমিশনকে মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার এবং ভোটের তারিখের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। উপরন্তু, গেজেট প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দলভিত্তিক ও জোটভিত্তিক সদস্যদের একটি পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।