5
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে একটি 'দায়মুক্তি বিল' পাস হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ 2026' বিল উত্থাপন করেন এবং এটি সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এই বিলটি পাস হওয়ার সাথে সাথে, '২৪-এর জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে জড়িত যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল প্রকার দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাইয়ের যোদ্ধারা এখন সব ধরনের আইনি হয়রানি ও বিচারিক জটিলতা থেকে সম্পূর্ণ রেহাই পেয়েছে।
এই নতুন আইন অনুযায়ী, বিদ্রোহ সংক্রান্ত আগের সব অভিযোগ ও মামলা নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে সরকারি আদেশের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। তদুপরি, এই আইনের একটি বিশেষ ধারায় বলা হয়েছে যে ভবিষ্যতে এই বিদ্রোহের সাথে জড়িত কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও নতুন মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। আইনি শর্তে, এটি স্থায়ীভাবে 'নিষিদ্ধ' বা আইনত নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, “জুলাই মাসে যারা রাজপথ কাঁপিয়েছিল সেই বীরদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা এই সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। যারা স্বৈরাচারকে উৎখাত করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন তাদের আইনগত জটিলতার মধ্য দিয়ে হয়রানির শিকার হওয়া থেকে বিরত রাখতে এই সুরক্ষা ঢাল তৈরি করা হয়েছে।”
একই দিন জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন সংশোধন অধ্যাদেশ বিল ২০২৬’ পাস হয়। এই বিল পাসের ফলে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার স্থায়ী আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে শুধু ব্যক্তি বা সংস্থাই নয়, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকেও সরাসরি নিষিদ্ধ করার পূর্ণ আইনি ক্ষমতা সরকারের থাকবে। এটি শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী শাসনের স্থপতি হিসাবে পরিচিত সংগঠনটির রাজনৈতিক ভবিষ্যত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার পথ তৈরি করে।